আমার গানের স্বরলিপি লেখা রবে
বল্লভ ফিরে গেছে পল্লব ঝরে গো
ধিন কেটে ধিন ধিন কেটে ধিন বাজে ঝড়ের ঢাক
যতদিন তারা জ্বলিবে সুদূর নভে
যবে শেষের প্রহরে হারানোর সুরে ফুল পল্লব ধরবে
ও পলাশ ও শিমুল কেন এ মন মোর রাঙালে
আকাশ মাটি ঐ ঘুমাল ঘুমায় রাতের তারা
আমায় ভুলবে কি জানি একটু পরেই যাবে
ঝাউয়ের পাতা ঝিরঝিরিয়ে ঘুমপাড়ানি গান গায়
প্রেম একবারই এসেছিল নীরবে
আর কত রহিব শুধু পথ চেয়ে
মেঘ কালো আঁধার কালো
আনন্দময়ী মাগো সদানন্দে হাস তুমি
ওরে মন কোন দেশেতে হয় রে এমন
শুক বলে সারি আমার রাধিকা জল নিতে ঘাটে যায়
এ আড়াল সহিতে পারি না ওগো অকরুণ
আমি আঁধার আমি ছায়া আমি মবীচিকা মরুমায়া
আমরা বাঁধন ছেঁড়ার জয়গানে
আমার সূর্যমুখী তোমার মুখের পানে
এই সুন্দর রাত্রি আকাশ পারে
তারে অনুনয় করে বলেছি যেওনা
এই মায়াবী তিথি এই মধুর গীতি
যদি কোনদিন ঝরা বকুলের গন্ধে
আমি হিসাব মিলাতে পারিনি
কান্দো কেনে মন রে, আঁধার আলোর এই যে খেলা
কাজল কাজল চোখে ঐ বন মযুরী নাচে
জাদুভরা ঐ বাঁশী বাজালে কেন
ও ময়না কথা কও, কেন চুপটি করে রও
কেউ নয় সাহেব বিবি নয় কেউ গোলাম ভাই
শুধু একটুখানি চাওয়া আর একটুখানি পাওয়া
তোমার দুটি চোখে ঐ যে মিষ্টি হাসি
নওল কিশোরী গো কিবা রূপ পেখনু আজ
আমার জীবনে নেই আলো আছে আলেয়ারই হাতছানি
সরমে জড়ানো আঁখি মুখপানে মেলে রাখি
না জানি কোন ছন্দে একি দোলা জাগে
আমি আর যে পারিনা সহিতে
ও বাঁশীতে ডাকে কে শুনেছি যে আজ
আকাশের অস্তরাগে আমারই স্বপ্ন জাগে
এই বালুকা বেলায় আমি লিখেছিনু একটি সে নাম
কেন দূরে থাকো শুধু আড়াল রাখো
এই যে পথের এই দেখা
দ্বারে এসে ফিরে গেলে তাই
আমায় কৃপা কর হে দয়াময়
যে অতিথি এসেছিল মোর এই দ্বারে
মালতী ভ্রমরে করে ঐ কানাকানি
তোমার ভূবনে মাগো এত পাপ
কেন দূরে থাক শুধু আড়াল রাখ
আমার জীবনের এত খুশি এত হাসি
আজ দু’জনার দুটি পথ ওগো
আমার আকাশ হয়না তো নীল
এই রাত তোমার আমার
বসে আছি পথ চেয়ে
ও আকাশ প্রদীপ জ্বেলো না